থার্টি ফার্স্ট নাইটের উদযাপনের মধ্যেই রাজবাড়ী শহরে ঘটে গেল এক হৃদয়বিদারক ঘটনা। বিবাদমান দুটি পক্ষের সংঘর্ষের সময় ছোড়া গুলিতে ১২ বছর বয়সী এক শিশু গুলিবিদ্ধ হন।
ঘটনাটি ঘটে বুধবার (৩১ ডিসেম্বর) রাত সাড়ে ১১টার দিকে রাজবাড়ী সদর উপজেলার বিনোদপুর কলেজপাড়া এলাকায় (পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড)। গুলিবিদ্ধ শিশুর নাম সিফাত। তিনি ওই এলাকার বাসিন্দা মো. শফিকুল ইসলামের যমজ সন্তানদের একজন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বালুমহল সংক্রান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের একপর্যায়ে গুলি ছোড়া হয়। ওই সময় একটি গুলি শিশুটির পেটের উপরের অংশে, বক্ষপিঞ্জরের নিচে লাগে। গুরুতর আহত শিশু লুটিয়ে পড়ে। স্থানীয়দের সহায়তায় শিশুটির মা দ্রুত তাকে রাজবাড়ী জেলা সদর হাসপাতালে নিয়ে আসেন।
জরুরি বিভাগে চিকিৎসক ডা. মো. নুরুল আজম তাৎক্ষণিকভাবে শিশুটিকে পরীক্ষা করেন এবং সার্জারি বিশেষজ্ঞ ডা. রাজীব দে সরকারকে ডাকেন। চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি গানশট ইনজুরড অ্যাবডোমেন ও হাইপোভলিউমিক শকে আক্রান্ত ছিলেন। গুলির আঘাতে খাদ্যনালির একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করা হয়েছিল। দ্রুত রিসাসিটেশন ও চিকিৎসা শুরু হওয়ায় শিশুর জ্ঞান ফেরে এবং তার ভাইটাল সাইনস স্থিতিশীল হয়।
শিশুর অবস্থা কিছুটা উন্নত হওয়ায় উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।
শিশুর মা বলেন, “বালুমহল নিয়ে সংঘর্ষের সময় আমাদের বাড়ির আশপাশে ভাঙচুর ও গোলাগুলি হচ্ছিল। হঠাৎ আমার সন্তানের পেটে গুলি লাগে। সদর হাসপাতালে ডাক্তাররা সময়মতো চিকিৎসা শুরু না করলে হয়ত আমার সন্তানকে হারাতাম।”
শিশুর বাবা মো. শফিকুল ইসলাম জানিয়েছেন, চিকিৎসা সম্পন্ন হওয়ার পর মেডিকেল সার্টিফিকেটের ভিত্তিতে তারা আইনি ব্যবস্থা নেবেন।
রাজবাড়ী সদর থানার ওসি খোন্দকার জিয়াউর রহমান জানান, দুই পক্ষের মধ্যে শত্রুতার জের রয়েছে। এক পক্ষ প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য গুলি চালায়, কিন্তু শিশুটি আঘাতপ্রাপ্ত হয়। পুলিশি অভিযান চলছে এবং আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলমান।
এ ঘটনায় এলাকায় চরম উদ্বেগ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে। স্থানীয়রা দ্রুত দোষীদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার দাবি করেছেন।





